বা‌জেট প্রস্তাব

সহজ করা হ‌চ্ছে বি‌দেশী বি‌নি‌য়োগকারী‌দের অর্থ প্রত্যাবাসন

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অর্থ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বাজেট প্রস্তাবে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ সহজ করতে আরো বেশকিছু প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়েছে।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বৈধ বিদেশী বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা এবং নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা হিসাবের (এনআইটিএ) মাধ্যমে ক্রয় করা শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ বিক্রির অর্থ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বিনিয়োগের প্রক্রিয়া এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে সময় বেশি লাগার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পাশাপাশি মুনাফা ও মূলধন দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থ প্রত্যাবাসনে বিলম্ব বা অনিশ্চয়তা থাকলে অনেক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী নতুন বাজারে বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। সরকারের নতুন উদ্যোগ এ উদ্বেগ দূর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় এসব উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদন ও পরিপালন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানো হবে।’

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে সময়নির্ধারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন দাখিল, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের মতো পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।

বাজেট প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পেনশন তহবিল, বীমা কোম্পানি, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে।

এছাড়া করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প অর্থায়নে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো তহবিলসহ বিভিন্ন অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

পুঁজিবাজারের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশীয় কোম্পানিগুলোর জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে ‘রিজিওনাল ডুয়াল লিস্টিং’-এর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

বাজেটে নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী ও ইস্যু ম্যানেজারসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য ‘প্রফেশনাল লায়াবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ এবং ‘লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স’ চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা বাজারে জবাবদিহি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক করতে বর্তমানের টি+২ থেকে ধাপে ধাপে টি+০ সেটলমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

আরও